
ওমান উপসাগরে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘তুসকা’ জব্দের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, চীন থেকে ওমান উপসাগরের পথে থাকা অবস্থায় মার্কিন বাহিনী জাহাজটি আটক করে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে জাহাজটিতে গুলি চালায় এবং এর নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দেয়।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্টকমও জাহাজটি জব্দ করার কথা স্বীকার করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান মানববিহীন ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা চালায়।
ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘দস্যুতামূলক’ নীতির বিরুদ্ধে তারা প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ব্যাপক আকার ধারণ করে। ৩৯ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক আলোচনায় স্থায়ী সমাধান না আসায় উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয় ১৬৮ শিক্ষার্থী, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।