ইনসাইডার ডেস্ক, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে সরকার ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর মধ্যে তিনটি দেশ ইতোমধ্যে চুক্তি সইয়ে সম্মতি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যা চিহ্নিত মামলাগুলোতে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি সইয়ে সম্মতি দিয়েছে। বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ লক্ষ্যে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) এবং আইনগত সহায়তা অনুরোধ (এমএলএআর) বিনিময়ের কাজ চলছে।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে, যা বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার।
তিনি আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে এবং সিআইডি, এনবিআর ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
সরকারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেশে প্রায় ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থ পাচার সংক্রান্ত মোট ১৪১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অতীতের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরতে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রণয়ন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।