ইনসাইডার ডেস্ক, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলে রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি নাও হতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, যুদ্ধ এড়াতে হলে আগেভাগেই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি প্রয়োজন।বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ-এর ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কোর্সে সংসদ সদস্য, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন খাতের মোট ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন।সেনাপ্রধান বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা সম্পর্কে সবার সচেতন থাকা জরুরি। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনী-কে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, আমদানি-রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে সমুদ্রপথ সুরক্ষা অপরিহার্য। তবে পর্যাপ্ত অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল (ওপিভি) না থাকায় ছোট করভেট দিয়ে টহল দিতে হচ্ছে, যা অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নয়।একইভাবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী-র সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট না কেনায় আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান। তার মতে, কক্সবাজার বা চট্টগ্রামে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা থাকলে বর্তমান রোহিঙ্গা সংকটের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।তিনি বলেন, সময়মতো প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। “আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকর পররাষ্ট্রনীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান।সেনাপ্রধান জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা না থাকলে তা কখনোই উন্নতি করতে পারে না। সামরিক বাহিনীকে সবসময় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বক্তব্যে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও দেশে পর্যাপ্ত তেল পরিশোধন সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে দেশের একমাত্র রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি মাত্র ১০–১৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে, ফলে বাকি জ্বালানি উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে।রাশিয়ার মতো দেশ থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগ থাকলেও রিফাইনারির অভাবে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।