ইনসাইডার ডেস্ক, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটো জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশকে স্থগিত বা বহিষ্কার করার আইনি বিধান নেই। যুক্তরাষ্ট্র স্পেনকে সাময়িকভাবে ন্যাটো থেকে বরখাস্ত করার চেষ্টা করতে পারে—এমন একটি প্রতিবেদনের পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এই অবস্থান স্পষ্ট করে জোটটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ একটি ই-মেইলে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে মার্কিন অভিযানে সমর্থন না দেওয়া মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিভিন্ন প্রস্তাব আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতি মার্কিন অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়ও ছিল।
তবে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, জোটের চুক্তিতে সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কারের কোনো বিধান নেই, ফলে এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সুযোগও নেই।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক নথি ছাড়া কোনো ই-মেইলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, স্পেন মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে, তবে তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে হতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর এবং ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে স্পেন তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ইরান ইস্যুতে আরও গভীরভাবে জড়ানো যুক্তরাজ্যের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তবে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে এবং ইরানি ড্রোন প্রতিহতে অংশ নিয়েছে।
এদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ন্যাটোর ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মান সরকারও স্পেনের সদস্যপদ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই বলে স্পষ্ট করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর ভেতরে মতপার্থক্য থাকলেও জোটের কাঠামোগত ঐক্য এখনো অটুট রয়েছে।