ইনসাইডার ডিস্ক, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে বাংলাদেশ আবারও ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং তুলনামূলক ধীর জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে এই সম্ভাবনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ২,৯৯০ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু আয় প্রায় ২,৯৭০ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক চিত্রে নতুন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয় এবং রপ্তানি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব খাত নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখছে।
অন্যদিকে ভারতের ক্ষেত্রে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে সামগ্রিক অর্থনীতির আকারের দিক থেকে ভারত এখনও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সাময়িকভাবে মাথাপিছু আয়ে ভারতকে অতিক্রম করেছিল। তবে কোভিড-পরবর্তী সময়ে ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ফলে সেই অবস্থান পরিবর্তিত হয়। আইএমএফের নতুন পূর্বাভাসে আবারও বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাথাপিছু জিডিপিতে সম্ভাব্য এই অগ্রগতি কেবল পরিসংখ্যানগত সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তবে এটি টেকসই করতে কাঠামোগত সংস্কার ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার বিকল্প নেই।