ইনসাইডার ডিস্ক, ০১ মে, ২০২৬

দেশে ইলেকট্রিক যানবাহনের (ইভি) ব্যবহার বাড়াতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য আমদানিকৃত বাসের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক ও কর তুলে নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গত ২৮ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানায়, বর্তমানে ইভি আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাটসহ বিভিন্ন কর মিলিয়ে মোট করভার প্রায় ৬২ শতাংশ। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইভি বাস আমদানি সহজ হবে এবং পরিবহন খাতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিকল্প পরিবহন হিসেবে ইভি ব্যবহারে উৎসাহ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য চুক্তিভিত্তিক ট্রান্সপোর্ট পুল ব্যবহার করে, তাহলেও এই সুবিধার আওতায় ইভি বাস আমদানি করা যাবে।
তবে শুল্ক-কর ছাড় পেতে কিছু শর্ত মানতে হবে। আমদানিকৃত বাস অবশ্যই নতুন হতে হবে এবং এতে কমপক্ষে সাত বছর বা তিন লাখ কিলোমিটার ওয়ারেন্টি থাকতে হবে। এছাড়া বাসে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকতে হবে এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে স্কুল বা শিক্ষার্থী পরিবহন বাস হিসেবে নিবন্ধন নিতে হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—আমদানির পর পাঁচ বছরের মধ্যে এসব বাস বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। এই নীতির মাধ্যমে সরকার ইভি ব্যবহারের বিস্তার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে চায়।