ইনসাইডার ডিস্ক, ০১ মে, ২০২৬

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির স্বর্ণ ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের জুয়েলারি খাতে বিলিয়ন ডলারের অপ্রকাশিত রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর পরামর্শক কমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, অনেকের ধারণা স্বর্ণ ব্যবসা কালো অর্থনীতির অংশ। তবে এ বিতর্কে না গিয়ে পুরো খাতকে দৃশ্যমান ও নিয়মতান্ত্রিক অর্থনীতির মধ্যে আনার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত যেখানে স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানি থেকে বছরে প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলার আয় করে, সেখানে বাংলাদেশের কারিগরদের দক্ষতা একই মানের হলেও দেশ সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছে না। তার মতে, এই খাত থেকে বাংলাদেশের অন্তত ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।স্বর্ণখাতের সম্ভাবনা বাস্তবায়নে পরীক্ষাগার সুবিধা উন্নয়ন, আধুনিক ডিজাইনের প্রসার এবং সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।একইসঙ্গে জ্বালানি সংকট ও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হারকে ব্যবসার প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রী বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে না পারলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের কর পরিশোধে মানসিকতার পরিবর্তন এনে জাতীয় উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।বৈঠকে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আসন্ন বাজেটে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা এবং নারীদের জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে সীমিত রাখার সুপারিশ করা হয়।এছাড়া, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ)-এর বর্তমান ৭ বিলিয়ন ডলারের সীমা বাড়ানো এবং ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাজেট সহায়তা দেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।