ইনসাইডার ডিস্ক, ০৩ মে, ২০২৬

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা কম সুদে ঋণ নিতে পারবেন, যা মূলত কারখানার চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তবে শুধুমাত্র যেসব কারখানার বাজারে চাহিদা রয়েছে এবং নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তারাই এই সুবিধা পাবে।এ লক্ষ্যে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে বন্ধ কারখানার বিস্তারিত তালিকা চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার বেশি, সেগুলোর তথ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ বন্ধ ও আংশিকভাবে বন্ধ কারখানার তালিকাও পৃথকভাবে চাওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তহবিল গঠনের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ বিষয়ে আজ রোববার কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। বৈঠকে কারখানাগুলো কীভাবে পুনরায় চালু করা যায় এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন—সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।যেসব কারখানা ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে, তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার সুবিধাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।তবে অর্থ পাচার বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধার বাইরে থাকবে। নতুন তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাড়তি নজরদারির কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।তহবিলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থে নাকি সরকারি অর্থায়নে গঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় সরকারি অর্থায়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ ব্যবহারে নতুন করে টাকা ছাপাতে হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় অর্থনীতি সচল রাখতে সরকার ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। তবে সেই প্রণোদনার বড় একটি অংশ পরে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়, যা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও সতর্কভাবে তহবিল পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।