ইনসাইডার ডিস্ক, ১৪ মে, ২০২৬

পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকা অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কাগজে উন্নয়ন কাজ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনের সংসদ সদস্য তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এলাকার রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা মূলত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) অধীন উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানতে পারেন, শুধু এলজিআরডি মন্ত্রণালয় একটি মিনিস্ট্রি থেকেই প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকা “কাগজে কাজ দেখিয়ে” তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি।তিনি আরও জানান, এই অনিয়ম ও পরবর্তী আইনি জটিলতার কারণে প্রায় এক বছর ধরে উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, পিরোজপুর জেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রকল্প মিলিয়ে প্রায় ৬০০০ কোটি টাকার অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, আজ থেকে সাত-আট মাস আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পিরোজপুরে প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, দৃশ্যমান কোনো কাজ না করেই পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়, বর্তমান সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী ও তাঁর বড় ভাই শামীম সাঈদীর নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কাজের নামে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয় পর্যায়ে রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের দাবি নিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান। প্রধানমন্ত্রী তাদের উন্নয়ন কাজ চালুর আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বের বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন বলে পোস্টগুলোতে উল্লেখ করা হয়।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত বা সরকারি অডিট রিপোর্টও এখনও প্রকাশ হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ তোলায় পিরোজপুরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে নতুন করে তদন্ত, অডিট ও জবাবদিহিতার চাপ তৈরি হতে পারে।