ইনসাইডার ডিস্ক, ২৩ মে, ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিবিরকর্মী শামীম হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও নিষিদ্ধ কার্যক্রমে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য আবু তালিব। অনুষ্ঠানে এমপিকে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করতে দেখা যায় মহিদুল ইসলাম মন্টুকে। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি গ্রামে মন্টুর বাড়িতে তার মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর বিয়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম ও তবিবুর রহমান মিনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ওদু, আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসেরসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
মহিদুল ইসলাম মন্টু কালীগঞ্জ উপজেলার এক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি শিবিরকর্মী শামীম হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ বিকেলে কালীগঞ্জ শহরের মাহতাব উদ্দিন কলেজের পূর্ব গেট এলাকা থেকে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকযোগে শামীম হোসেনকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। পরে একই বছরের ১৩ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার লাউখালি গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার প্রায় আট বছর পর, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন শামীমের বাবা রুহুল আমিন। মামলায় মহিদুল ইসলাম মন্টুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক কর্মী বলেন, “শিবিরকর্মী হত্যা মামলার আসামির মেয়ের বিয়েতে গিয়ে জামায়াতের এমপি অংশ নিয়েছেন, এটি অনেকের কাছেই বিব্রতকর।”
তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবু তালিব বলেন, “ওই ইউনিয়নে আমার গ্রামের বাড়ি। সামাজিক সম্পর্কের কারণেই অনুষ্ঠানে গিয়েছি। হত্যা মামলায় মন্টুর নাম আমিই দিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে।”