ইনসাইডার ডিস্ক, ২৭ মে, ২০২৬

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কোনো উসকানি ছাড়াই গুলি ছুড়লে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিক কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাল্টা গুলি করে। ১৮ মে বিকেলে ঘটা এই ঘটনার পর থেকে সীমান্তে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত।
প্রায় দুই দশক পর বিজিবির দিক থেকে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা গেল। বিজিবির এমন রুপে অনেকেই অবাক হয়েছেন। এমনকি দিল্লিবিরোধী হিসেবে পরিচিত ড. ইউনুসের সরকারকেও এত কঠোর হতে দেখা যায়নি। মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ড. সালাহ উদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বদলে গেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি। পুলিশ, আনসার ও অন্য নিরাপত্তা বাহিনীর মতো বিজিবিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি বাহিনী।
বিজিবি আগে সীমান্তে কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখাত না। বাংলাদেশি কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে পতাকা বৈঠক করে লাশ ফেরত আনা ছাড়া কাজ ছিল না তেমন। একই সিলেট সীমান্তে আলোচিত ফেলানির লাশ পর্যন্ত নামানোর সাহস পায়নি বিজিবি।
অথচ নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসার ১০০ দিনের মধ্যেই বিজিবিরই ভিন্ন রূপ দেখতেছে সবাই। বিএসএফ গুলি করলে বিজিবিও পাল্টা গুলি করছে। ভারতের দিকে থেকে অবৈধ লোক ঠেলে পাঠানো বা পুশইন করলে বিজিবি আবার পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানোর মত সাহস দেখাচ্ছে। যেকারণে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যটির জেলায় জেলায় ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে।
এছাড়া সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বিএসএফ স্থাপনা করতে চাইলে বাধা দিচ্ছে সংস্থাটি।বাংলাদেশিদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলেও গালি ফেরত দিচ্ছে বিজিবি।
বিডিআর বিদ্রোহের পর নতুন নামে আসা বিজিবিকে ভারতীয় বাহিনীর সামনে সীমান্তে নখদর্পহীণভাবেই দেখা হত। এমনকি জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের সামনে বিজিবি মোতায়েনের পর শিক্ষার্থীরা ওদেরকে বিলাই বলে স্লোগানও দিয়েছে।
কিন্তু আকস্মিক বিজিবির এই মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়ানোর পেছনের নায়ক বলা হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।
এর পাশাপাশি আলোচিত তনু হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিকে গ্রেফতার করার মাধ্যমে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন নতুন মন্ত্রী। আসামি গ্রেফতারে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সবাই আফসোস করে বলতো, তনুকে ভল্লুকে খেয়েছে। বছরের পর বছর তনুর খুনীরা ধরা না পড়ায় আফসোস করতো সারাদেশের মানুষ। কিন্তু সালাহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম অভিযুক্ত গ্রেফতার হলো। এর কৃতিত্ব অবশ্যই সালাহউদ্দিন আহমেদের দিতে হবে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যা এদেশে একটা ডালভাত বিষয় হয়ে গেছিল। সকাল বিকাল অহরহ ক্রসফায়ারের নামে ঠান্ডা মাথায় খুন হতো। কিন্তু সালাহউদ্দিন আহমেদ স্বরাষ্ট্রের দায়িত্ব নেয়ার পর ক্রসফায়ার বন্ধ হয়ে গেল।
সরকারের প্রথম ১০০ দিনে একটা ক্রসফায়ারের কথাও শুনা যায়নি। গ্রেফতার করার পর এখন আর আটকের কথা কেউ অস্বীকার করে না। এজন্য অবশ্যই সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশংসা প্রাপ্য।
সবশেষ, রামিসার নির্মম হত্যাককাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় খুনীকে গ্রেফতার করতে পুলিশ সময় নিয়েছে মাত্র ৭ ঘণ্টা। ধর্ষক যদি গ্রেফতার না হতো, তাহলে পুরো দায় দেওয়া হত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তাহলে মাত্র ৭ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের কৃতিত্বও তার।
তাছাড়া, ওয়ান-ইলেভেনের অত্যন্ত প্রভাবশালী জেনারেলদের গ্রেফতার করে বিচার শুরুর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই।
সবচেয়ে বড় একটি বিষয় এই তিন মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওগার মতো উল্লেখযোগ্য কোন ঘটনা নাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও পাসপোর্টে ইরায়েলে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারটা নিয়ে আসতেছে। মান্ডি লন্ডারিং বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের চাইতে অনেক সক্রিয়।
সবদিক বিবেচনা বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ভালভাবেই সফল বলা যায়।