রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন জমি চাইল জাতিসংঘ, সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ চায় স্থায়ী সমাধান।

ইনসাইডার ডিস্ক, ২১ জুন, ২০২৬

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। তবে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র শনিবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে।
একই সময়ে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি নতুন করে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, ফলে এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ সংকট দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা খাতে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে।
রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান স্থানীয় জনগোষ্ঠী, অবকাঠামো এবং জাতীয় সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তাই সংকটের দ্রুত ও কার্যকর সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক অংশীজনদের কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাও নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী এবং প্রত্যাবাসনই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সংকটের মূল কারণ দূর করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে থেকেই বাংলাদেশে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। পরে একই বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর কয়েক মাসের মধ্যে আরও প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী সংকট হিসেবে বিবেচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.