দলে দলে ঘরে ফিরছে গাজাবাসী

দলে দলে ঘরে ফিরছে গাজাবাসী

দীর্ঘ সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিলিস্তিনের গাজায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে মানুষ। দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে হামাস ও ইসরায়েল অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। বন্দিবিনিময় এবং সেনা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরা।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকেই মধ্য গাজার অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অঞ্চলগুলো থেকে হাজারো মানুষ হেঁটে রওনা হয় গাজা সিটির পথে। অনেকেই চোখের জল মুছতে মুছতে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দেন, কেউ কেউ শিস বাজিয়ে কিংবা চিৎকার করে প্রকাশ করেন স্বস্তির উচ্ছ্বাস।
এক সময়ের কর্মব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ শহর গাজা এখন ধ্বংসস্তূপ। তবু নিজের শহরে ফিরতে পারার অনুভূতি গাজাবাসীদের চোখে মুখে।

গাজার ইব্রাহিম আল-হেলু (৪০) বলেন, আমি আবেগাপ্লুত হলেও সতর্ক ছিলাম। রাস্তায় কোনো বাধা নেই, এখন আমরা গাজায় আমাদের বাড়ি ফিরে সেখানকার পরিস্থিতি দেখার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি।

চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর ও তুরস্ক।

হামাসের পক্ষ থেকে আলোচক দলের প্রধান খলিল আল-হায়া বলেন, এই চুক্তি গাজায় সংঘাতের সমাপ্তি টানবে। আমাদের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ত্রাণ প্রবেশ ও বন্দিবিনিময়ের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরা নিশ্চয়তা দিয়েছে যে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। এরপর দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, আহত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার।

এর আগে দুই ধাপে অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। বাকি সময় ধরে চলেছে লাগাতার বিমান হামলা, স্থল অভিযান ও মানবিক বিপর্যয়।

এই যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়া কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে অন্তত এই মুহূর্তে গাজা উপত্যকার আকাশে দীর্ঘদিন পর কিছুটা হলেও নেমে এসেছে স্বস্তির ছায়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog