স্কুল নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ মোকাবেলায় তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হল— ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।
শুক্রবার পুত্রজায়ায় সেরুলিংয়ের সুরাউ জান্নাতুল ফিরদৌস মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়ের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য জানান।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমরা দেখেছি কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন গেমগুলো শিশুদের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে, এমনকি কখনও কখনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকেও নিয়ে যায়। তাই আমরা ১৬ বছর বা তার কম বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দিকে এগিয়ে যাব। প্রস্তাবটি এখনও অধ্যয়ন করা হচ্ছে, তবে অনেক দেশ ইতিমধ্যেই একই ধরণের ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে।’
সময় শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক সুস্থতা বৃদ্ধির জন্য অভিভাবক এবং অভিভাবক-শিক্ষক সমিতির সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মূল্যবোধ-ভিত্তিক এবং নৈতিক শিক্ষা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন মালয় প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে মন্ত্রীসভার এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এ বিষয়ে শিগগিরই নির্দেশিকা জারি করা হবে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রস্তাবিত তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ অনুসরণ করে উপযুক্ত নির্দেশিকা তৈরি করা হবে, যার মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করাও অন্তর্ভুক্ত। এই নির্দেশিকাটি নিকট ভবিষ্যতে জারি করা হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, দেশের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, মালয়েশিয়ান যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশনের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য এই ন্যূনতম বয়স কার্যকর করার প্রক্রিয়াটি অধ্যয়ন করবে।
প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়া জুড়ে স্কুলগুলোতে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনার পর এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে পেটালিং জায়ার বন্দর উটামায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৬ বছর বয়সী ছাত্রী ইয়াপ শিং জুয়েনের ১৪ বছর বয়সী সহপাঠীর ছুরিকাঘাত নিহত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
সূত্র: ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে
