কারো সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেয়নি এনসিপি: সারজিস
বডি: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইলেক্ট্ররাল অ্যালায়েন্স (নির্বাচনি সমঝোতা) করবে কিনা এনসিপি এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। যদি করে অবশ্যই এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে করবে; তা হচ্ছে যারা আগামীর বাংলাদেশে জুলাই সনদের প্রত্যেকটি সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করবে, যারা বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে, যারা শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান ও ভারতীয় আধিপ্ত্যবাদবিরোধী অবস্থান থাকলে এনসিপি তাদের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা করতে পারে।
সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জে এনসিপির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা শহরে সিটি ড্রিম কনভেনশন সেন্টারে এ সভার আয়োজন করে জেলা এনসিপি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইলেক্ট্ররাল অ্যালায়েন্স (নির্বাচনি সমঝোতা) করবে কিনা এনসিপি এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। যদি করে অবশ্যই এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে করবে; তা হচ্ছে যারা আগামীর বাংলাদেশে জুলাই সনদের প্রত্যেকটি সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করবে, যারা বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে, যারা শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান ও ভারতীয় আধিপ্ত্যবাদবিরোধী অবস্থান থাকলে এনসিপি তাদের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা করতে পারে।
সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জে এনসিপির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা শহরে সিটি ড্রিম কনভেনশন সেন্টারে এ সভার আয়োজন করে জেলা এনসিপি।
এনসিপির জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী জাহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী এএইচএম মাহফুজের সঞ্চালনায় সমন্বয় সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার। সভায় জেলা এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শাপলা প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন শাপলা না পাওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি দেখাতে পারেননি। নির্বাচন কমিশন যদি তাদের মনমতো স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে থাকে তাহলে নির্বাচন কমিশন আগামীর বাংলাদেশে সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচন উপহার দিতে পারবে না। এই নির্বাচন কমিশনের ওপর বাংলাদেশের জন্যগণের আস্থা থাকবে না, এনসিপিরও আস্থা থাকবে না। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করেই আগামীর নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে এনসিপির কোনো সমস্যা নেই। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলেও এনসিপির কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সরকারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ যেসব দায়িত্ব রয়েছে যেগুলো বাস্তবায়ন না করলেই নয়, যেমন- জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি দেওয়া, জুলাই সনদের বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা প্রদান করা, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ যেন আমরা কার্যকর দেখতে পারি। এ বিষয়গুলো দেখানো এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই নির্বাচন কমিশন তাদের স্বাধীনতা, স্বকীয়তা বজায় রেখে নিরপেক্ষ থাকলে এবং তা প্রমাণ করতে পারলে নির্বাচনে এনসিপির সমস্যা নেই। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা করেন, আমরা মনে করি বাংলাদেশের মানুষ তাদের ওপর আস্থা রাখবে না। এবং তারা এগুলোকে পাশ কাটিয়ে, উপেক্ষা করে শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক চিন্তা করতে পারবে না।
সারজিস আলম বলেন, জুলাই সনদে যে সব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে তা সংস্কার-সংশ্লিষ্ট বিষয়। এই সংস্কার-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। যে সংস্কারগুলো দীর্ঘমেয়াদী তা আগামী সংসদ নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হবেন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে যারা স্বাক্ষর করেছে তাদের প্রতিশ্রুতি হবে, ওই সনদে থাকা প্রত্যেকটি দাবি ঐক্যবদ্ধভাবে আগামীর মেয়াদকালীন তারা বাস্তবায়ন করবে।
এককভাবে জামায়াতে ইসলামী কিংবা বিএনপি ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং আওয়ামী লীগবিরোধী লড়াইকে শক্তিশালীভাবে চালিয়ে যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন সারজিস আলম।
তিনি বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং আওয়ামী লীগবিরোধী লড়াইয়ে এনসিপি এবং তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি আবশ্যক। আমরা মনে করি, দুর্নীতিবিরোধী আগামীর বাংলাদেশে যে জনআকাঙ্ক্ষার লড়াই, সেই লড়াইও সংসদে এই তরুণ প্রজন্ম ও এনসিপির প্রতিনিধি আবশ্যক। সেই লক্ষ্যে আমরা আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রত্যেকটি জেলায় সাংগঠনিক সমন্বয় সভা করছি। আমরা মনে করি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থাকবে এবং শক্তিশালী ভিত্তি নিয়ে আগামীতে সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে।
সারজিস আলম বলেন, এনসিপিসহ দলের অন্যান্য যে সকল সংগঠন আছে তা আমরা মনে করি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি প্রয়োজন। আমরা প্রত্যেকটি জেলায় জুলাই পদযাত্রা করেছিলাম, এখন আমরা প্রত্যেকটি জেলায় সাংগঠনিক সমন্বয় সভা করছি। আগামীর বাংলাদেশ আমরা এনসিপিকে একটি শক্তিশালী দল হিসেবে দেখতে চাই। আমরা মনে করি, আগামী বাংলাদেশ এনসিপি একটি শক্তিশালী দল হিসেবে জাতীয় সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং আওয়ামী লীগের প্রশ্নে এনসিপি আপসহীনভাবে পূর্বের মতো আগামীতেও লড়াই করে যাবে।
