আগামী বছরের ফিফা বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে যাচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কমপক্ষে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন পর্তুগালের এ তারকা।
বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না পর্তুগালের সামনে। দল যখন ২-০তে পিছিয়ে সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঘটে ঘটনাটি।
৬১তম মিনিটে দারা ও’শেরার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির সময় নিয়ন্ত্রণ হারান রোনালদো। তিনি সরাসরি কনুই দিয়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করেন। রেফারি গ্লেন নিগবার্গ প্রথমে তাকে হলুদ কার্ড দেন। পরে ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বদলান। এরপরই দেখানো হয় সরাসরি লাল কার্ড। মাঠ ছাড়ার সময় রোনালদোর রাগ দেখা যায়। তিনি রেফারিকে তালি দেন। দর্শকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয়।
ফিফার নিয়ম এই ধরনের আচরণকে ‘সহিংস আচরণ’ বলে। ফিফার শাস্তিনীতিতে লেখা আছে, ‘প্রতিপক্ষকে আঘাত করলে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।’
এই পরিস্থিতিতে রোনালদো কত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন, তা এখন পরিষ্কার। যদি ফিফা ‘সহিংস আচরণ’ হিসেবে দেখে, তবে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন এ তারকা।
এক্ষেত্রে যদি ‘গুরুতর ফাউল’ ধরা হয়, তবে অন্তত দুই ম্যাচ। আবার যদি বল পজেশনের বাইরে আঘাত হিসেবে দেখা হয়, তবে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়তে পারে। এই অবস্থায় রোনালদোর দুশ্চিন্তা বেড়েছে। সবচেয়ে কম হলেও তিনি এক বা দুই ম্যাচ মিস করবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, তার নিষেধাজ্ঞা যেতে পারে বিশ্বকাপেও।
পর্তুগাল এখনও সরাসরি বিশ্বকাপে ওঠেনি। তারা যদি প্লে-অফ এড়াতে না পারে, তবে রোনালদোর জন্য তা হবে বিপদের। তিনি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচও নিষেধাজ্ঞার কারণে মিস করতে পারেন।
তাই এই নিষেধাজ্ঞা শুধু পর্তুগালের শেষ বাছাই ম্যাচেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার ওপর আরও বড় শাস্তিও আসতে পারে। তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হলে আর্মেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ এবং আরও কয়েকটি আনুষ্ঠানিক ম্যাচ তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
বড় বিষয় হলো, যদি পর্তুগাল আর্মেনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়, তাহলে এই নিষেধাজ্ঞা সরাসরি বিশ্বকাপে পড়বে। এমন ঘটনাও বড় ফুটবলারদের ক্ষেত্রে খুবই বিরল।
