হংকংয়ের একটি আবাসিক এলাকায় একসঙ্গে ৮টি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। এছাড়াও অন্তত আরও ২৭৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
আবাসিক কমপ্লেক্সটি হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলের তাই পো এলাকায় অবস্থিত। ওয়াং ফুক কোর্ট নামের কমপ্লেক্সটির প্রায় সব ভবনই ৩১ তলা বিশিষ্ট। সাত বা আটটি ভবন নিয়ে গঠিত কমপ্লেক্সটিতে প্রায় ২ হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। দেশটির সম্পত্তি এজেন্ট মিডল্যান্ড রিয়েলটির সরকারি তথ্য অনুসারে, কমপ্লেক্সটিতে ৪ হাজার ৬৪৩ জন বাসিন্দা রয়েছে, যাদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশির বয়স ৬৫ বছরের বেশি। সরকার-ভর্তুকিপ্রাপ্ত এই কমপ্লেক্সটিতে খেলার মাঠ, স্কুল এবং একটি শপিং সেন্টার এবং গির্জা রয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৫১ মিনিটে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়। সংবাদামাধ্যম চায়না ডেইলি এক প্রতিবেদন এ খবর নিশ্চিত করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০০ বর্গফুট (৪৬.৫ বর্গমিটার) এর কম আয়তনের দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টগুলো ২.৮৫ মিলিয়ন হংকং ডলারে (৩৬৬,৫১০ মার্কিন ডলার) বিক্রি হচ্ছে।
অনলাইন পোস্ট অনুসারে রয়টার্স জানিয়েছে, এক বছর ধরে ৩৩০ মিলিয়ন হংকং ডলার (৪২.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে কমপ্লেক্সটি সংস্কারের কাজ চলছে। প্রতিটি ইউনিটের জন্য ১৬০ হাজার হংকং ডলার থেকে ১৮০ হাজার হংকং ডলার খরচ হচ্ছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএইচকে জানিয়েছে, রাত পর্যন্ত আহত সাতজনকে চিকিৎসার জন্য অ্যালিস হো মিউ লিং নেদারসোল হাসপাতাল এবং প্রিন্স অফ ওয়েলস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর এবং একজনের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। ঘটনাস্থলে মাথ থেকে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যরা হাসপাতালে মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর তারা কমপ্লেক্সটির নিচের রাস্তায় অসংখ্য ফায়ার ইঞ্জিন ও অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পেয়েছেন। বিশ্বের যেসব দেশে ভবন নির্মাণে এখনো বাঁশের মাচা ব্যবহার করা হয়, হংকং সেগুলোর একটি। আগুন লাগা টাওয়ারগুলোর বাইরের দিকে বাঁশের ভারা থাকায় আগুন নিচে থেকে দ্রুত উপরের দিকে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হংকং পরিবহন বিভাগ জানায়, আগুনের কারণে তাই পো রোডের পুরো একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সড়কে চলাচলকারী গাড়ি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস এক বিবৃতিতে আশেপাশের বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা জারি করে। এছাড়া আশেপাশের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার, দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জনসাধারণকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
