ইনসাইডার ডিস্ক, ০৩ মে, ২০২৬

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদে নারীদের জন্য আলাদা বাসসেবা চালু, বাইসাইকেল রাইড শেয়ারিং চালু; মধ্যমেয়াদে বাসরুট রেশনালাইজেশন ও বিদ্যুৎচালিত বাস প্রবর্তন; এবং দীর্ঘমেয়াদে মেট্রোরেলের পাশাপাশি লাইট রেল ও মনোরেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর এ খাতে সংস্কার আনতে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এর অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাসহ একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছে, যেখানে আগামী ছয় মাস থেকে শুরু করে পাঁচ বছরের কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু রুটে ‘পিংক বাস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আটটি রুটে নয়টি বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে চালক ও সহকারী হিসেবে নারীরাই দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য নারীদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
পরিবেশবান্ধব যাতায়াত উৎসাহিত করতে উত্তরা এলাকায় মেট্রোরেল স্টেশনকেন্দ্রিক বাইসাইকেল রাইড শেয়ারিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ছয়টি সাইকেল স্ট্যান্ড, ১৫০টি সাইকেল এবং প্রায় ৬ কিলোমিটার সাইকেল লেন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে।
ঢাকার বাসব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে বাসরুট রেশনালাইজেশন ও ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনাও পুনরায় জোর দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটে সীমিত সংখ্যক কোম্পানির বাস চলবে, একই রঙের বাস নির্দিষ্ট স্টপেজে থামবে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎচালিত বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলবাস আমদানিতে শুল্ক শূন্য করার পাশাপাশি ইলেকট্রিক বাস আমদানিতেও কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গণপরিবহনের সেবার মান বাড়াতে চালক, কন্ডাক্টর ও সুপারভাইজারদের লাইসেন্সিং ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচ হাজার কর্মীকে লাইসেন্স দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষ সুবিধার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেল ও দূরপাল্লার পরিবহনে ভাড়া ছাড়ের নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি পরিবহনশ্রমিকদের জন্য ইউনিফর্ম চালুর উদ্যোগও রয়েছে।
ঢাকার গণপরিবহনের মূল ভিত্তি হিসেবে মেট্রোরেলকে ধরা হলেও, সরকার এখন এর পাশাপাশি লাইট রেল ও মনোরেল চালুর পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে কয়েকটি মেট্রোরেল প্রকল্প চলমান থাকলেও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মেট্রোরেল বাস্তবায়ন কঠিন হওয়ায় সেখানে মনোরেল বা বিকল্প রেলভিত্তিক ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন একটি সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর, যেখানে বাস, মেট্রোরেল, লাইট রেল ও মনোরেল মিলিয়ে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে—যা রাজধানীর যানজট কমাতে ও যাত্রীসেবা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।