গুম-হত্যা বিতর্কের প্রেক্ষাপটে র‍্যাব বিলুপ্তির পথে

ইনসাইডার ডিস্ক, ১৪ জুন, ২০২৬

দেশের এলিট বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
র‍্যাবের পরিবর্তে “পিপলস প্রটেকশন ফোর্সেস (পিপিএফ)” নামে নতুন বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে “পিপলস প্রটেকশন ফোর্সেস আইন–২০২৬” শীর্ষক একটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খসড়াটি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত হয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংও সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই এটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাহিনীও র‍্যাবের আদলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে। বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন একজন মহাপরিচালক (ডিজি), যিনি পুলিশের একজন কর্মকর্তা হবেন এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) অধীন থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।
খসড়া আইনে পিপিএফ সদস্যদের তল্লাশি, আটক ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পর্যায়ের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার বা জব্দের পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি হস্তান্তর এবং সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
নতুন বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্ত্রাসবাদ দমন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ আটটি প্রধান কার্যক্রম। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং তদন্ত কার্যক্রমেও অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ১৭টি যৌক্তিক কারণে পিপিএফ সদস্যদের আটক করা যাবে এবং সে ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করতে হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, র‍্যাবের বিদ্যমান সম্পদ, দায়দেনা ও জনবল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিপিএফে স্থানান্তরিত হবে। বর্তমানে কর্মরত র‍্যাব সদস্যরাই নতুন বাহিনীর অংশ হবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, দীর্ঘদিন ধরে র‍্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সমালোচনা এ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। সরকার বলছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি আরও আধুনিক, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত বাহিনী গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.