
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশে প্রথমবারের মতো স্যাটেলাইটভিত্তিক সমুদ্র তথ্যকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা সামুদ্রিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন-কে।
“স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার” নামে কেন্দ্রটি গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৬তম সিন্ডিকেট সভায় স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন পায়।
১৭ এপ্রিল কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আল-ফোরকান। এ সময় পরিচালক কেন্দ্রের সার্ভার সিস্টেম, অ্যান্টেনা অবকাঠামো, ল্যাবরেটরি এবং ডিসপ্লে ইউনিটসহ বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরেন। উপাচার্য এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর সফল বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন।
২০১৯ সালে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য বঙ্গোপসাগর থেকে তথ্য সংগ্রহ জোরদার করা এবং দেশের ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে সহায়তা করা। চীনের কারিগরি সহায়তায়, বিশেষ করে সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি-এর সঙ্গে সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ২৬ মার্চ নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং বর্তমানে এর অধিকাংশ অবকাঠামো সম্পন্ন হয়েছে। এখন স্যাটেলাইট ডাটা গ্রহণ, প্রসেসিং সিস্টেম উন্নয়ন এবং বিশ্লেষণী সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। ২০২৬ সালের মে মাসে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে জুনের শুরুতে কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেন্দ্র চালু হলে সামুদ্রিক গবেষণা, জলবায়ু পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ পূর্বাভাস, মৎস্য উন্নয়ন, জলোচ্ছ্বাস মডেলিং এবং নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগও তৈরি করবে।