1 month ago
61 views

চবির নিয়োগ বিতর্কে নতুন মোড়: ৪২৫ পদ নিয়ে পুনঃতদন্ত ও শাস্তির দাবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিগত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখ্তারের সময় ৫টি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে ৪২৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পুনঃতদন্ত, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং স্বচ্ছ নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন চাকসুর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।সোমবার (২০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে নিয়োগ সংক্রান্ত ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ পুনঃতদন্ত; তদন্তে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান; এবং অস্বচ্ছ ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রাপ্ত সকল নিয়োগ বাতিল করা।এছাড়া বাতিল হওয়া পদগুলোতে পুনরায় স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য একটি স্পষ্ট, আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতে সকল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজে প্রকাশ নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়।স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী মাত্র ৫টি সিন্ডিকেট সভায় গড়ে প্রায় ৮৫টি করে নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমনকি শুক্রবার ও ২১ ফেব্রুয়ারির মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনেও সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে নীতিমালাও পরিবর্তন করা হয়েছে— যা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।এ বিষয়ে আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “৫ই আগস্টের পর আমরা একটি সুন্দর ক্যাম্পাসের প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই সময়ে ৫টি সিন্ডিকেটে ৪২৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রশাসন ও সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে বলে আশা করি। যাদের নিয়োগে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের নিয়োগ বাতিল ও শাস্তির আওতায় আনা হোক। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে না, তাদের বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।”এ বিষয়ে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, “নিয়োগের বিষয়ে আমি অনেক অভিযোগ পেয়েছি এবং জাতীয় পত্রিকায়ও বিষয়টি এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.