2 weeks ago
29 views

জাবির ধর্ষণচেষ্টার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে একপক্ষ, অভিযোগ জাকসুর

ইনসাইডার ডিস্ক, ১৬ মে, ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিযুক্তকে আটকের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। আল্টিমেটামের সময় শেষ হলে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে উপাচার্য ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা দেখা যায়।

এর প্রেক্ষিতে ‎শনিবার (১৬ মে) দুপুর ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করে জাকসুর সদস্যরা।

জাকসুর জিএস মাজহার দাবি করেন, একটি পক্ষ বিশেষ উদ্দেশ্যে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তার অভিযোগ, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য বিশেষ একদল শিক্ষার্থীরা সারারাত আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে প্রক্টর ও ভিসির বিরুদ্ধে অসদাচরণ করেছে।

তিনি সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও নেটিজেনরা বলছেন, জাকসুর জিএস মূলত বাম ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বুঝাতে চেয়েছেন।

গতকাল রাতে যারা ভিসির বাসভবনের সামনে ছিলেন তাদের অধিকাংশই বামের পদধারী নেতা ছিলেন এবং অন্যরাও তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হবে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করে থাকেন।

এর আগে, রাত ১১টার দিকে আন্দোলনকারী বিশেষ পক্ষের সাথে এ বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যা দেন আন্দোলনকারীরা।

‎এ সময় উপাচার্য বলেন, ‘১৭ বছরের মূল্যবোধের অবক্ষয় আমি টানছি। ১৭ বছর ফ্যাসিস্টের মধ্যে ছিলাম। ওদের বিচার, ছাত্রদের বিচার, সকল অন্যায়কারীর বিচার হবে একটা লোককেও ছাড়া হবে না। যেটা ন্যায্য সেটা আমি করবো, নিয়মের বাইরে আমি যাব না।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘২৪ সালে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ছিলাম। কোনো উপাচার্য পেয়েছিলে, যে কয়দিন দাঁড়িয়ে ছিল আমার মতো? এই যে আগের উপাচার্য, ২৪ এর আন্দোলনের সময় এই গেটের সামনে বাচ্চাগুলোকে মারছিল—ওই লোকটা ভিতরে বসে ছিলেন। কার সাথে কাকে মিলাও? আমি রাস্তার লোক।’

‎ঘটনার পরদিন থেকেই আন্দোলনকারীরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন যে, এর মধ্যে অভিযুক্তকে আটক করতে হবে, অন্যথায় প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে।

‎আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার আগেই রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল (১৫ মে) সময় শেষ হলে রাত ৩টার দিকে টারজান পয়েন্ট থেকে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা।

রাতে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনকারী এক বাম নেতা হুট করে ভিসির মুখে খিচুড়ি ঢুকিয়ে দিতে চান। এতে ভিসি ক্ষিপ্ত হয়ে গেলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এটি শিক্ষকের সাথে বেয়াদবি এবং এর মাধ্যমে বামেরা হীন স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

এছাড়া অভিযোগ আছে, গত কয়েকবছর ধরে ক্যাম্পাসে এ প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে বেশকজন বাম নেতা হাতেনাতে ধরা পড়েন। একারণে এ ইস্যুটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মাধ্যমে ভিসি ও প্রক্টরকে সরাতে তৎপর হয়ে ওঠেছে প্রগতিশীল নামধারী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.