ইনসাইডার ডিস্ক, ০২ জুলাই, ২০২৬

সরকার বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ) সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঐতিহাসিক জলিল টেক্সটাইল মিলসের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকের অনুমোদনের ফলে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পত্তিটি বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ)-এর সম্প্রসারণ প্রকল্পে ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হলো। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতীকী মূল্য হিসেবে নির্ধারিত অর্থ বিওএফ বিটিএমসি-কে পরিশোধ করবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একই প্রস্তাব দুই দফা উত্থাপিত হলেও অনুমোদন পায়নি। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই প্রথমবার প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হলে প্রতীকী মূল্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হস্তান্তরের নীতিগত আপত্তি জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। সে সময় তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, প্রতীকী মূল্যে জমি বরাদ্দ দিলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জমির দাবি ওঠে এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরে একই বছরের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জলিল টেক্সটাইল মিলসের বকেয়া দায়-দেনা পরিশোধ করে জমি গ্রহণের সংশোধিত প্রস্তাব দেয়। তবে বিটিএমসির স্থায়ী সম্পদ ও দায়-দেনার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সেই প্রস্তাবও অনুমোদন পায়নি।
অবশেষে নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার সম্প্রসারণের জন্য জলিল টেক্সটাইল মিলসের জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে।