ইনসাইডার ডিস্ক, ১৮ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) তাদের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামমাত্র জিডিপি (Nominal GDP) নিয়ে হালনাগাদ পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক আকারে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে তুরস্ক।আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তুরস্কের জিডিপি দাঁড়াতে পারে ১ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে। দীর্ঘদিন ধরে এই তালিকায় শীর্ষে থাকা ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে এবার প্রথম স্থানে উঠে আসছে দেশটি। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার জিডিপি ১ দশমিক ৫৪ ট্রিলিয়ন ডলার হবে বলে ধারণা করা হয়েছে।তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব, যার অর্থনৈতিক আকার ২০২৬ সালে ১ দশমিক ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে মাত্র তিন দেশমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে শুধুমাত্র তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাতারে রয়েছে।এরপরের অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যার জিডিপি প্রায় ৬২২ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য জিডিপি ৫১৬ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশের জিডিপি ৫১১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হয়েছে।এছাড়া উত্তর আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি মিসরের জিডিপি ৪৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। পাকিস্তানের জন্য ২০২৬ সালের আলাদা পূর্বাভাস না থাকলেও, দেশটির অর্থনৈতিক আকার গত বছর প্রায় ৪০৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।“বহুমুখী অর্থনীতি তুরস্ককে এগিয়ে রাখছে”বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বড় উত্থানের পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে উৎপাদনশিল্পের সম্প্রসারণ, পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার।তারা বলছেন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনসংখ্যাগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয়া বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের ওঠানামা ও কিছু খাতে ধীরগতির কারণে চাপে পড়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতিগুলো মূলত জ্বালানি ও কাঁচামাল রপ্তানিনির্ভর হলেও তুরস্কের শিল্প ও সেবা খাতভিত্তিক বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো দেশটির প্রবৃদ্ধিকে আরও টেকসই করেছে।এর আগে জানুয়ারিতে আইএমএফ তুরস্কের ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধি ৪.২ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিলেও, এপ্রিলের সংশোধিত প্রতিবেদনে উচ্চ তেল ও গ্যাসমূল্যের প্রভাব বিবেচনায় এনে সেই পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সম্ভাব্য জিডিপি (বিলিয়ন ডলার)১. তুরস্ক — ১,৬৪০২. ইন্দোনেশিয়া — ১,৫৩৯৩. সৌদি আরব — ১,৩৮৯৪. সংযুক্ত আরব আমিরাত — ৬২২৫. মালয়েশিয়া — ৫১৬৬. বাংলাদেশ — ৫১১৭. মিসর — ৪৩০৮. পাকিস্তান — ৪০৮৯. কাজাখস্তান — ৩৬০১০. আলজেরিয়া — ৩১৭১১. ইরান — ৩০০১২. ইরাক — ২৬৫১৩. কাতার — ২১৭১৪. মরক্কো — ১৯৪১৫. উজবেকিস্তান — ১৮২১৬. কুয়েত — ১৭৩১৭. ওমান — ১১৭