ইনসাইডার ডেস্ক, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাতে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে র্যাংকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে ২৫ শতাংশ ইকুইটি স্টেক কিনতে কৌশলগত চুক্তি করেছে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান Mitsubishi Corporation। ঢাকায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে দেশে গাড়ির উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তার ফলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর বাজার থেকে স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজন ও উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। নতুন এই অংশীদারত্ব প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটি বর্তমান সরকারের অধীনে একটি বড় প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করবে এবং ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের প্রচেষ্টা আরও গতি পাবে।
এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে Mitsubishi Corporation তাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করবে এবং বিক্রয় ও বিপণন দক্ষতা বাড়াবে। একই সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় বাজারে গাড়ির সহজলভ্যতা বাড়বে।
র্যাংকন হোল্ডিংসের গ্রুপ এমডি রোমো রউফ চৌধুরী বলেন, এটি দেশের অটোমোবাইল শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক, যেখানে স্থানীয় জ্ঞান ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটবে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র্যাংকন অটো ইতোমধ্যে দেশে বহুব্র্যান্ডের গাড়ি সংযোজন ও উৎপাদন করছে। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে ‘Mitsubishi Xpander’ উৎপাদন শুরু করেছে, যা বর্তমানে দেশের জনপ্রিয় ফ্যামিলি এসইউভিগুলোর একটি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগের ফলে স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে গাড়ির দাম কমবে, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।