ইনসাইডার ডিস্ক, ০৭ জুন, ২০২৬

আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সারা দেশে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগস্ট সকাল ১১টায় ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু ঢাকায় নয়, দেশের প্রতিটি জেলা পর্যায়েও শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব জেলায় স্থাপিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভেও রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। স্মৃতিস্তম্ভগুলোকে আলোকসজ্জার মাধ্যমে সাজানো হবে এবং দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক, সড়কদ্বীপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সজ্জিত করা হবে।
এছাড়া দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় প্রামাণ্যচিত্র এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের ব্যবস্থা থাকবে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের জাদুঘরগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ রাখা হবে।
সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করবেন। একই দিন দেশের সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার সেন্টার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং ভবঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।
দিবসটিকে ঘিরে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের পাশাপাশি রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি এবং মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। দীর্ঘদিনের গুম, খুন, মিথ্যা মামলা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ত্যাগ ও সংগ্রামের ফল ছিল এই অভ্যুত্থান। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের অর্জিত চেতনা ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও তাৎপর্য জনগণের কাছে তুলে ধরতে সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ পালনের উদ্যোগ নিয়েছে।